এক সময় আজিম নগর নিবাসী মাষ্টার ফয়েজ উল্লাহ ছাহেব বাড়ীতে মৌলানা মহিউদ্দিন নামক এক ব্যাক্তিকে মাইইজভান্ডারী ত্বরিকা'মতে হালকায়ে জিকির, ছেমা ও সেজদায়ে তাহিয়ার বিরুদ্ধে ও মাইজভান্ডারী ভক্তগণের বিরুদ্ধে ওয়াজ করার জন্য দাওয়াত দেওয়া হয়।

সৌজন্যেঃ আশেকানে ছাত্র পরিষদ,চুয়েট শাখা

হযরতের মধ্যম ভ্রাতার দ্বিতীয় পুত্র ও অন্যতম খলিফা জনাব মৌলানা সৈয়দ আমিনুল হক ওয়াসেল মাইজভান্ডারী (প্রকাশ ছোট মাওলানা ছাহেব) আজিম নগর নিবাসী মুন্সী সৈয়দ আফাজুদ্দীন ছাহেবের পুত্র হযরত ছাহেবানীর সহোদর ভ্রাতা ও হযরতের ফয়েজপ্রাপ্ত খলিফা আবদুল মজিদ মিয়া কে হযরতের খেদমতে পাঠাইয়া আরজ করিলেন- 


হুজুর আমরা বহু আলেম দরবারে পাকের শিষ্য ভক্তদের মধ্যে বর্তমান আছি। মহেশখালীর মৌলানা আকামুদ্দিন ছাহেব, রাঙ্গুনিয়ার মৌলানা খলিলুর রহমান ছাহেব, বাশখালীর মৌলানা মোহছেন ছাহেব, সুন্দরপুরের মৌলানা আমিনুল্লাহ ছাহেব, কাঞ্চনপুরী মৌলানা আবদুল গণি ছাহেব (আয়নায়ে বারী প্রণেতা), মৌলানা আবদুছ ছালাম, মৌলানা আবদুল হাদী, ফরহাদাবাদী মৌলানা আমিনুল হক ছাহেব এবং হাফেজ কারী মৌলানা মোহাদ্দেস সৈয়দ তাফাজ্জুল হোসেন ছাহেব এবং আরো অনেক বিখ্যাত আলেমগণ উপস্থিত আছেন।


খোদার ফজলে আমাদের কাছে সমস্ত মাসায়েলের কিতাবাদি ও প্রমাণাদি মজুদ আছে। আমাদের মধ্যে প্রায় সবাই মোনাজেরাই সুদক্ষ। হুজুরের অনুমতি পাইলে আমরা মৌলানা মহিউদ্দিনের সাথে বাহাস করিতে ইচ্ছা করি। 


 হযরত আদেশ করিলেন, 


“তিনি মুসবী তরিকার লোক, খিজিরী কাজ কারবার সম্পর্কে তিনি কি বুঝিবেন ?

তোমরা ফাসাদ ও বাহাস করিওনা। আপন হালতে থাকিয়া যাও। তাহারা তোমাদের সঙ্গে মিলিয়া যাইবে। ”


তখন মৌলানা আমিনুল হক ওয়াসেল মাইজভান্ডারী সাহেবের (হযরতের ভ্রাতুষ্পুত্র) আদেশে আবদুল মজিদ মিয়ার বাড়ীতে ছেমা সহ জজবার মজলিস করা হয়। 


তাহারা ছেমার মজলিস করা কালে যাহারা আবদুল মজিদ মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়া যাইতে লাগিল , ছেমার শব্দ কানে আসিতেই তাহাদের জজবা ও সমস্ত শরীরের আলোড়ন হইতে লাগিল।


 সকলেই ইহা দেখিয়া অবাক হইয়া গেল। হিন্দুরা বলাবলি করিতে লাগিল, এই রাস্তা দিয়া যাইওনা। এই বাড়িতে মক্কা চালান দিতাছে।কেহ স্থির থাকিতে পারিবেনা। ফলে দেখা গেল মৌলানা মহিউদ্দিনের মজলিস জমিল না । উক্ত মজলিস হইতে প্রায় সকলেই জজবা হালত ও বেখোদ অবস্থায় এই হালকায়ে ছেমার মজলিসে যোগদান করিতে লাগিল।


  • তথ্যসূত্রঃ  হযরত কেবলার জীবনী শরীফ,পঞ্চম সংস্করণের ১৮৫ ও ১৮৬ পৃষ্টা 
সৌজন্যেঃ আশেকানে ছাত্র পরিষদ,চুয়েট শাখা