১। ইলেম গভীর সাগর সাদৃশ্য মারিফাত তার তরঙ্গ। 


২। দান করলেই খোদায়ী নিয়ামত লাভ করা সম্ভব। 


৩। আরেফের নিদর্শন এ যে, তিনি মৃত্যুকে বন্ধু মনে করেন এবং প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে তিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন। 


৪। মুহাব্বতের নিদর্শন এ যে, বান্দা আল্লাহ্ তাআলার ইবাদত করবে এবং সাথে সাথে তার এ ভয়ও থাকবে যেন তার নৈকট্য হতে সে বঞ্চিত না হয়। 


৫। পিতা-মাতার দিকে ভক্তিপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকানও ইবাদত। 


৬। হতভাগা সে লোক,যে গুনাহর কাজে লিপ্ত থেকেও মনে করে,

প্রভু আমাকে কবুল করে নিবেন। 


৭। পরিশ্রম ব্যতীত কোন কিছুই লাভ করা সম্ভব নয়। 


৮। চার শ্রেণীর লোক খুবই ভাল। 


১মঃ যে দরবেশ সর্বদা নিজেকে ধনী মনে করে। অর্থাৎ সম্বলহীন হওয়া সত্ত্বেও যে নিজের দারিদ্র্য কখনও প্রকাশ করে না। 


২য়ঃ ক্ষুধার্ত নিজেকে তৃপ্ত ভাবে, 


৩য়ঃ যে চিন্তাক্লিষ্ট বিপন্ন সর্বদা হাসিমুখে থাকে, 


৪র্থঃ যে লোক শত্রুর সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করে। 


৯। সর্ব প্রথম যে বিষয়টি মানুষের উপর ফরয করা হয়েছে, তা হল আল্লাহর মারিফাত। 


১০। তাওবার স্তর কয়েকটি 


জাহলের সংসর্গ পরিত্যাগ করা, 


ভ্রান্তদের থেকে দূরে থাকা,

অবিশ্বাসীদের সান্নিধ্য পরিহার করা, 


আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সোহবত অবলম্বন করা ও নেক কাজে মনোনিবেশ করা। 


১১। নেক করার চাইতে নেকবানের সোহবত যত উত্তম,পাপ করার চাইতে পাপীর সোহবত তত খারাপ। 


১২। কোরআন শরীফ,কাবাগৃহ পিতামাতা,বুযর্গ আলেমও ওস্তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা ইবাদতের শামিল। 


১৩। আরেফ যখন নীরব থাকেন, মনে করবে তিনি প্রভুর সাথে কথা বলছেন। 


১৪। এ ব্যক্তি প্রকৃত দরবেশ যার কাছে এসে কোন লোক মাহরুম হয় না। 


১৫। ভালবাসার প্রকৃত দাবিদার এ সকল লোক, যারা সর্বদা বন্ধুর কথা শুনতে ভালবাসে। 


১৬। সত্যিকার বন্ধু এ ব্যক্তি, যে বন্ধুর দেয়া বিপদকে হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করে। 


১৭। একজন মুসলিম ভাইকে বে-ইজ্জাতি বা অপদস্থ করলে যত ক্ষতি হয় সারাজীবন গুনার কাজে লিপ্ত থাকলেও তত ক্ষতি হয় না। 


১৮। যে সকল কথা বা কাজ আল্লাহ্ পাক অপছন্দ করেন, বান্দাও যদি সে সকল কাজ ও কথা ঘৃণা করতে শিখে, তবেই আল্লাহর দোস্তী সে অনায়াসে লাভ করতে পারে। 


১৯। ক্ষুধার্তকে অন্নদান,অভাগ্রস্তের অভাবপুরণ ও শত্রুর সাথে সদাচরণ, চরিত্রের বিশেষ গুণ। 


২০। এ ব্যক্তিই প্রকৃত প্রেমিক যার ইহলোক ও পরলোকের সকল আশা ত্যাগ করে একমাত্র মহান মাহবুব আল্লাহ তাআলার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। 


২১। কোন লোক ততক্ষণ আরেফ(তত্ত্বজ্ঞানী) হতে পারে না যাবৎ সে নিজ অস্তিত্ব একেবারে ভুলে না যায়। 


২২। প্রেমের পথে যে অটল থাকে, প্রেমাগ্নি তার অস্তিত্বকে বিলোপ করে দেয়। 


২৩। আরেফের (তত্ত্বজ্ঞানীর) এমন একটি স্থর আছে যেখানে পৌঁছলে সমস্ত সৃষ্টি জগতকে সে দুই আঙ্গুলের মাঝে দেখতে পায়। 


২৪। দেহ সুস্থ থাকে অল্প আহারে,আত্মা সুস্হ থাকে অল্প নিদ্রায় আর মাহবুবের নৈকট্য পাওয়া যায় অধিক ক্রন্দনে। 


২৫। আরেফ (তত্ত্বজ্ঞানী) দুনিয়ার শত্রু এবং আল্লাহর বন্ধু। সে দুনিয়াকে ঘৃণা করে, দুনিয়ার সুখ- দুঃখ,আরাম-আয়েশ,আকাঙ্খা-বাসনা,দুর্যোগ

ও ফাছাদ - হাঙ্গামার কোন খোঁজ-খবর রাখেনা। 


২৬। আশেকের অন্তরের প্রেম প্রজ্জলিত অগ্নির ন্যায়। যে বা যারা এর মধ্যে প্রবেশ করে তারা দগ্ধিত হয়ে যায়। কেননা প্রেমের আগুনের কাছে জগতের সমস্ত আগুন নির্জীব হয়ে যায়। 


২৭। যারা দুধের শিশু তুল্য জ্ঞানের উপযোগী,

তাদেরকে পোলাও-কোরমার মত অতি উঁচু স্তরের জ্ঞান দিওনা। 


২৮। " নদীর প্রবাহিত পানির মধ্য থেকে সুর শ্রবণ করা যায় কিন্তু যখন নদী সাগরে মিলিত হয় তখন তার আর কোন সুর থাকে না।অনুরূপভাবে আশেক যখন মাশুকের সাথে মিলিত হয়ে বিলীন হয়, তখন তার সব সুর বন্ধ হয়ে যায়।" 


২৯। প্রেমহীন এবাদত কারী যে স্থানে হাজার রাকাত নামাজ দ্বারা পৌছবে, প্রেম মাদকতায় মত্ত ব্যক্তি সে স্থানে এক হুংকারেই পৌছে যাবে৷ 


৩০। সর্বাপেক্ষা বড় ইবাদত হচ্ছে জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে কোন বিপদগ্রস্ত ব্যাক্তিকে সাহায্য করা।


সৌজন্যে ঃ আশেকানে ছাত্র পরিষদ,চুয়েট শাখা