হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী বেলায়তী প্রভাবে মুত্যুকালে আজরাইল ফেরত ও ষাট বৎসর আয়ু বৃদ্ধি
| সৌজন্যেঃ আশেকানে ছাত্র পরিষদ,চুয়েট শাখা |
হযরত সুলতান বায়েজিত বোস্তামী (রঃ) সাহেবের দরগাহ শরীফের খাদেম শাহ মুনিরুল্লাহ সাহেব হযরতের মুরিদ ও ভক্ত ছিলেন। তিনি বলিলেন, কোন এক সময় তাহার প্রতিবেশী আবদুল কাদের সাহেব এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। বহু চিকিৎসা করা হইল, কোন প্রকার আরোগ্য লক্ষণ দেখা গেল না। ডাক্তার কবিরাজগণ আশা ত্যাগ করলেন। ইহাতে তিনি এবং তাহার আত্নীয়স্বজন আল্লাহতা'লার মেহেরবাণীর জন্য তাঁহার আউলিয়াদের শরাণাপন্ন হন। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাহার গোনাহ মাফের জন্য নানা প্রকার দান খয়রাত ও সিন্নি ছদকা আদায় করিতে লাগিলেন।
একদিন তিনি মৌং মনিরুল্লাহ্ সাহেবকে ডাকাইয়া তাহার বাড়িতে নিলেন এবং কাঁদিয়া বলিলেন, হযরত বায়েজিত বোস্তামী (রঃ) এর মাজারে যেন তাহার জন্য দোয়া করেন। তিনি বলিলেন যে, তাহার জীবন বোধ হয় শেষ হইয়া আসিয়াছে। বর্তমানে তাহার মৃত্যুভয় হইতে পাপের ভয়ই তাহাকে বেশী পীড়া দিতেছে।
মৌং সাহেব তাহাকে বলিলেন, "ভাই সময় থাকিতে পরকালের ভাবনা কর নাই, অসময়ে উপায় খুঁজিয়াই বা কি করিবে। এখন এক মাত্র কামেল পীরের নিকট আত্নসমর্পণ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় আমি দেখিতেছিনা।"
আবদুল কাদের সাহেব তাহার নিকট কামেল পীরের সন্ধান জানিতে চাহিলেন। মৌলভী সাহেব বলিলেন, "বর্তমানে মহাশক্তিবান, স্মরণের সঙ্গে স্মরণকারী ভক্তকে উদ্ধার করিতে পারে এবং তাহাকে পাপমুক্ত করাইয়া পলকে সুপথে ফিরাইয়া আনিতে পারে, এমন দয়াল অলি আল্লাহ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী ছাড়া অন্য কেহ আছে বলিয়া তো আমি মনে করি না। আপনার ভক্তি বিশ্বাস হইলে আপনি মনে মনে তাঁহার প্রতি ভক্তি ও আন্তরিকতার সহিত আত্নসমর্পণ করিয়া তাঁহার উসিলায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাহিতে পারেন। আমার বিশ্বাস আপনাকে আল্লাহ অতি সত্ত্বর কৃপা করিবেন।"
হযরত সাহেবের নাম শুনিয়া তাহার মনপ্রাণ যেন গলিয়া গেল ও মৃত্যুমুখীর হতাশ হৃদয়ে এক নতুন আশার জাগরন হইল। তিনি সর্বান্তকরণে হযরতের প্রতি নিজেকে সমর্পন ও রুজু করিলেন এবং জীবনে বাঁচিয়া শক্তি পাইলে তাঁহার খেদমতে আত্ননিবেদন করিবেন নিয়ত করিলেন।
আল্লাহতা'লার কি অভাবনীয় খেলা। গাউছে পাকের কি অসীম দয়া বলিতে না বলিতে সেই মুহূর্তেই তাঁহার মৃত্যুক্ষণ দেখা দিল। ভীষণ "ছকরাত" আরম্ভ হইল, তাড়াতাড়ি তাহাকে উত্তর শিরানা করা হইল। আত্নীয়স্বজনগণ মৃত্যুকালীন দোয়া কালাম পাঠ করিতে লাগিলেন। প্রায় ঘন্টাকাল ছকরাতের পর হঠাৎ ছকরাত লাঘব হইতে শুরু হইল। কিছুক্ষণ পর দীর্ঘ নিশ্বাসে তিনি চক্ষু উম্মিলন করিয়া পার্শ্ব পরিবর্তন করিলেন এবং করুণ কাতর স্বরে মহান খোদাতা'লার শোকরিয়া আদায়ে "আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ" বলিয়া উঠিলেন।
তখন মৌলভী সাহেব অবস্থা জিজ্ঞেসা করিলেন, ভাই! কেমন বোধ হইতেছে। আপনি এমন করিতেছেন কেন?
কাদের সাহেব প্রায় সুস্থ লোকের মত, নরম অথচ আবেগময় স্বরে আস্তে আস্তে বলিতে লাগিলেন, "ভাই সাহেব, আমি আপনার উপদেশ মত হযরত সাহেবের উসিলায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাহিয়া মনে মনে তাহার শরণাপন্ন হইতেই যেন তন্ময় প্রাপ্ত হইয়াছিলাম। সেই অবস্থায় দেখিতে পাই যে, একজন ভীষণাকৃতির মানব উন্মুক্ত কৃপানহস্তে দৌড়িয়া আসিয়া আমার বুকের উপর চাপিয়া বসিল এবং আমাকে জবেহ করিতে উদ্যত হইল। তখন আমার এমন ভীষণ ভয় ও কষ্ট হইতেছিল যে, যাহা আমি ভাষায় বলিতে পারিব না। ঠিক সেই সময় একজন বৃদ্ধ লোক বিদ্যুৎ গতিতে ছুটিয়া আসিয়া ঘাতকের হাত হইতে ভীষণ অস্ত্রখানা ছিনাইয়া লইলেন এবং ধাক্কা দিয়া আমার বক্ষ হইয়া নামাইয়া দিলেন। উক্ত ভীষণাকৃতি লোকটি তখন দৌড়িয়া পালাইয়া গেল। আমি এই মহা কষ্ট ও মৃত্যু হইতে রক্ষা পাইতেই দেখিতে পাই যে ঐ বৃদ্ধ মহাপুরুষটি হযরত সাহেব কেবলাই।
তিনি আমাকে বলিতে লাগিলেন, " তুমি আর চিন্তা করিওনা, আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করিয়াছেন এবং তোমার আরো ষাট বৎসর আয়ু বাড়াইয়া দিয়াছেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে তোমার বাবা ইন্তেকাল করিয়া যাইবেন। তুমি আরোগ্য লাভ করিয়া ওয়াদা মত আমার সাথে দেখা করিও। আমি তোমার জন্য জেয়াফতের খানা রাখিয়াছি।
এই কথা বলিয়া আমি কিছু বলার পূর্বেই তিনি কোথায় অদৃশ্য হইয়া গেলেন। আমার তন্দ্রা ও অস্থিরতা দূরীভূত হইল। তাই আল্লাহর প্রশংসা করিতে করিতে চক্ষু উম্মিলন করিলাম। এখন আমার মনে হইতেছে আমি প্রায় সুস্থ। আমার সর্বাঙ্গ যেন অতি হালকা অনুভূত হইতেছে।
তিনি ক্রমশঃ আরোগ্য লাভ করিলেন। এক সপ্তাহ পর তাহার পিতা ইন্তেকাল করিলেন। এক মাস পর কাদের সাহেব সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করিয়া আমার সঙ্গে দরবার শরীফ আসিয়া হযরতের নিকট বায়ত গ্রহণ করিলেন এবং হযরতের জেয়াফতের খানারূপী ফয়েজ অর্জন করিতে লাগিলেন।
এইভাবে হযরতের আধ্যাত্নিক ক্ষমতায়, স্মরণকারীকে আজরাইল হইতে ছিনাইয়া লইয়া আরো ষাট বৎসর আয়ু বাড়াইয়া দিলেন। আল্লাহপাক তাঁহার দোস্তদের প্রতি কি ক্ষমতাই অর্পন করিয়াছিলেন তাহা তিনিই জানেন।
তাই হাদীসে বলেন, অলিরা আল্লাহরই ক্ষমতা সম্পন্ন। তাঁহারা যাহা করেন তাহা আল্লাহই করিয়া থাকেন।
সৌজন্যেঃ আশেকানে ছাত্র পরিষদ,চুয়েট শাখা
0 Comments